মিঠুর বাবা ছিলেন একজন শিক্ষক। মা ছিলেন স্কুলের রাঁধুনি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় মিঠু ডাক্তারি না পড়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। মিঠু বিশ্বব্যাপী নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কাজ করে আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কারে ভূয়িত হন।
১৯১২ সালের ৮ জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সংগঠন আফ্রিকান জাতীয় কংগ্রেস সংক্ষেপে ANC প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সংগঠন আফ্রিকানদের সংহতি, যাবতীয় ধরনের বর্ণবৈষম্যবাদের বিরোধিতা করে এবং বর্ণবৈষম্যমুক্ত একীভূত ও গণতান্ত্রিক দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিষ্ঠার পক্ষে ঘোষণা দেয়।
ফ্রান্সের অভিজাতগণ দাবি করেন, অভিজাতরা বহিরাগত বিজেতা জাতি ফ্রাঙ্ক-এর বংশধর। ফ্রাঙ্কিশগণ যেহেতু শ্রেষ্ঠ এবং তাদের দ্বারাই ফ্রান্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেহেতু জন্মগতভাবেই তারা তৃতীয় শ্রেণির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এ কারণে সকল প্রকার রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা, নেতৃত্ব অভিজাতদের প্রাপ্য। তৃতীয় শ্রেণির লোকদের তারা বলে, এরা দাসদের সাথে সংকরায়নের ফলে উদ্ধৃত এজন্য তারা নিকৃষ্ট। আর এভাবে ফ্রান্সে বৈষম্য সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের বিষয়টি আমার পাঠ্যবইয়ের বর্ণবাদ প্রথার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। উদ্দীপকে বর্ণিত জুয়েলের গায়ের রং ফর্সা, তমালের গায়ের রং কালো। এ কারণে জুয়েল তমালকে ঘৃণার চোখে দেখে। জুয়েল মনে করে, তমালদের পূর্বপুরুষ নীচু জাতের। এজন্যই তমালের গায়ের রং কালো। উদ্দীপকের এ ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের বর্ণবাদ প্রথার সাদৃশ্য রয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের কারণে বর্ণবাদের ধারণার সৃষ্টি হয়। বর্ণবাদ মানব সমাজে বিদ্যমান একটি ঘৃণ্যপ্রথা। আমেরিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় এ প্রথা মানবতাকে কলঙ্কিত করেছিল। শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে আধিপত্যের প্রতিযোগিতা উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের বীজ বপন করে দীর্ঘকাল টিকেছিল। বর্ণবাদের মর্মকথা হলো শ্বেতাঙ্গরা জন্মগতভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের বা অন্যান্য জাতি অপেক্ষা উৎকৃষ্ট এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ওপর কর্তৃত্ব করার অধিকার আছে এবং তাদের প্রতি বৈষম্য আচরণ করা দোষের কিছু নয়।' পরিশেষে বলা যায়, উপনিবেশবাদ ও চরম জাতীয়তাবাদের ধারণা থেকেই বর্ণবাদের সৃষ্টি হয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উক্ত ধারণার জন্য অর্থাৎ বর্ণবাদ প্রথার জন্য অনেক দেশে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছিল। আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বর্ণবাদের কারণে সংঘাত সৃষ্টি * হয়েছিল। আমেরিকা মহাদেশে কৃষিকাজ ও অন্যান্য শ্রম কাজের জন্য আফ্রিকা থেকে নিগ্রোদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হতো। আফ্রিকার কালো মানুষের প্রতি আমেরিকার শ্বেতাঙ্গরা বর্ণবাদ নীতি অনুসরণ করত। আমেরিকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাস, ট্রেন, খাবারের দোকান প্রভৃতি ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের সাথে বর্ণবাদ নীতি অনুসরণ করত। দক্ষিণ আফ্রিকায় ঔপনিবেশিক শাসনামলে শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর কর্তৃত্ব করত। কৃষ্ণাঙ্গরা খনি এবং কঠিন কাজে নিয়োগ পেত; কিন্তু মজুরি পেত কম আর শ্বেতাঙ্গরা কম পরিশ্রমে বেশি বেতন পেত। এমনকি আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের অভিবাসী শ্বেতাঙ্গরাও শ্বেতাঙ্গ শাসকদের কাছে পক্ষপাতমূলক আচরণ পেত। স্থানীয় ভারতীয় বিচারকরা ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গদের বিচার করতে পারত না। বর্ণবাদ প্রথার কারণে আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বহুদেশে সংঘাত হয়েছে।পরিশেষে বলা যায়, বর্ণবাদ প্রথার কারণে আমেরিকা ও আফ্রিকাসহ বহু দেশে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকের উল্লিখিত মিঠুর সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের বর্ণবাদবিরোধী নেতা ডেসমন্ড টুটুর মিল রয়েছে।
মিঠুর বাবা ছিলেন একজন শিক্ষক। মা ছিলেন স্কুলের রাঁধুনি ও পরিচ্ছন্নকর্মী। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় মিঠু ডাক্তারি না পড়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। মিঠু বিশ্বব্যাপী নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কাজ করে আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। উদ্দীপকের এ ঘটনার সাথে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদীবিরোধী নেতা ডেসমন্ড টুটুর সাদৃশ্য রয়েছে। তিনি মহাত্মা গান্ধীর একান্ত শিষ্য হিসেবে অহিংস আন্দোলনের পূজারি ছিলেন এবং অহিংস নীতির মাধ্যমে মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার ইচ্ছে ছিল বর্ণবৈষম্যকে আফ্রিকার মাটি থেকে চিরতরে বিদায় দিতে পারলে আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গরা যেন পৃথিবীতে স্বর্গের দরজায় পা রাখবে। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কষ্ট ভোগ করেছেন। বারবার সরকার তাকে বিরক্ত করেছেন এবং অনেকবার তার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করেছে। তাকে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে। বর্ণবৈষম্যের আন্দোলন তাকে সামনের দিকে নিয়ে গেছে। তিনি বলতেন যে, "সাম্যবাদ ও নাজিবাদের মতো বর্ণবৈষম্যের আন্দোলন তাকে সামনের দিকে নিয়ে গেছে। তিনি বলতেন, সাম্যবাদ ও নাজিবাদের মতো বর্ণবৈষম্য একটি জীবন্ত অভিশাপ। এ অভিশাপকে দূর করতেই হবে। তা না হলে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার কোনো সার্থকতা থাকবে না। তিনি ১৯৮৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের মিঠুর সাথে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ডেসমন্ড টুটুর সাদৃশ্য রয়েছে।